Gopal Patha এবং The Bengal Files

গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের পরিচয়:

গোপাল পাঠা, যার আসল নাম ছিল গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর সংগ্রাম ছিলো বাঙালি হিন্দুর মান, জান এবং স্থান রক্ষার্থে। তিনি ছিলেন পাকিস্থান পন্থী মুসলিম লীগের নির্মম হত্যা লীলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভীম শিলা। তিনি একটি মাংসের দোকান চালাতেন। তাই, তাঁর নামের সঙ্গে পাঠা উপমা ব্যাবহার করা হতো। 

গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা:

1997 সালে, কলকাতায় গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে Andrew Whitehead, এর একটি কথপোকথনের ভিত্তিতে আমার আজকের এই প্রতিবেদন।

সময়টা ১৯৪৬, Direct Action Day এর আগে, দেশ ভাগের আগে ইংল্যান্ড থেকে তিনবার কমিশন এসেছে। গান্ধীজী এই দেশ ভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন। কংগ্রেসের নেতারারা তখন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একদল দেশ ভাগের পক্ষে, আরেক দল দেশ ভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বার্লিন থেকেই বলছিলেন, “তোমরা দেশভাগ করো না”। 

কংগ্রেসের যে সকল নেতারা দেশ ভাগের পক্ষে ছিলেন, তারা গান্ধীকে ওভারেটক করেন। সেই সময় লেডি মাউন্টব্যাটন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরুকে রাজি করান।

মুসলিম লীগের কিছু সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবীরা বৌবাজার থেকে হ্যারিসন রোড পর্যন্ত লাঠি হাতে মার্চ করছিল। তাঁদের মুখে স্লোগান ছিলো —“लड़कर लेंगे पाकिस्तान, मरकर लेंगे पाकिस्तान !” অর্থাৎ “লড়াই করে, মৃত্যু বরণ করে পাকিস্থান করে বানাবো”। তারপর খবর এলো, বেলেঘাটায় দুইজন হিন্দু গোয়ালাকে মুণ্ড পাত করে হত্যা করা হয়েছে।

গোপাল বাবু তাঁর প্রতিবেশী মুসলিমদের একত্রিত করে বলেছিলেন, "আমাদের এটা থামাতে হবে। এই খুনোখুনি, লুঠপাট বন্ধ করতে হবে"। চাঁদনী বাজারের একটি মেস ছিলো, যেখানে ৩৫০-৪০০ মুসলিম কর্মচারীরা থাকতো। তার পাশে স্যালভেশন আর্মি বলে একটি মেস ছিলো, সেখানেও মুসলিম ভর্তি ছিলো। গোপাল বাবু তাঁদের এই দাঙ্গা থেকে বিরত রাখার সেই উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন, কিন্তু তিনি এসে দেখলেন, তার বাড়ির সামনে আবর্জনা জোড়াকরে, তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে (সম্ভবত দরজা জ্বালিয়ে, দরজা ভেঙে লুঠ করার উদ্দেশ্যে) এবং বাড়ির সামনে একটি দোকানে কিছু লোক (মুসলিম গুণ্ডা) লুঠ করছে।

গোপাল বাবু তাঁর হাতের ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমন করেন এবং একজনকে আহত করেন। তারপর তিনি ও প্রতিবেশীরাও ধাওয়া করে তাদের তাড়িয়ে দেয়। 

গোপাল বাবুর কিছু মুসলিম বন্ধু ছিলো। যাদের ডেকে তিনি এলাকা শান্ত রাখার কথা বলছিলেন।এমন সময় বেলা চারটা নাগাদ তাসা বাজিয়ে কিছু গুণ্ডা বাহিনী তাঁদের ওপর আক্রমণ করে।গোপাল বাবুর মুসলিম বন্ধুদের দ্বারা তখনকার মতো সেই ঝামেলা আটকে দেন। 

দাঙ্গার বিপদ বুঝে মেসের প্রায় ৪০০ মুসলমানদের তিনি নিজেদের ছেলেদের রক্ষনাবেক্ষনের দ্বারা বৌবাজার পুলিশ স্টেশনে নিরাপদে পাঠিয়ে দেওয়া দেন। কিন্তু সন্ধে হতে না হতে সেখানে মুসলিম লীগের লোকেরা জমায়েত হতে থাকে এবং গোপাল বাবু তাঁর পরিচিত মুসলমান বন্ধুদের দ্বারা এই জমায়েত না করার অনুরোধ করেন।

যখন তিনি ও তাঁর ছেলেরা ওই জমায়েতের ভেতর ঢুকে তাদের বোঝাতে যান। মুসলিম জনতা তাঁকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে ধরে। তাঁর কোমড়ে তখন দুটো লোড করা বন্দুক ছিলো। তিনি চাইলেই গুলি করতে পারতেন। কিন্তু, তিনি একটি জীবনের মূল্য বুঝতেন। তাই, দেওয়াল টপকে নিজের প্রাণ বাঁচান। এরপর হরেন ঘোষের হত্যা সম্পর্কেও জানা উচিত।

হরেন ঘোষ হত্যাকান্ড:

হরেন ঘোষ একজন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি আমলা শঙ্কর, উদয় শঙ্করদের মতো গণ্য মান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বাড়ি ছিলো ৩৯ মদনবরালে। ধর্মতলা স্ট্রিটে ওয়াছেল মোল্লার দোকানবাড়ির একটি ঘরে তার নিজের অফিস ছিলো। সেখানেই খুন হন তিনি খুন হন। এবং সন্ধ্যা ৬টার সময় পার্ক স্ট্রিট থানার কাছে রাউডন স্ট্রিটে একটি স্যুটকেসে তাঁর টুকরো টুকরো লাশ পাওয়া যায়

সোহরাবর্দি ওই বাড়ির একটি বাইজির কাছে যেতেন। সেই বাইজির বাড়িতে বসে তিনি ও তার লোকজন। একটি চিরকুটে বাংলা ভাগের প্ল্যান করেছিল। সেই চিরকুট সোহরাবর্দি বাইজির বাড়িতে ফেলে চলে যায়। সেই ফেলে আসা চিরকুট পেয়ে যায় হরেন ঘোষ। এটাই তাঁর কাল হয়ে যায়। 

প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস এবং সোহরাবর্দির ষড়যন্ত্র: 

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে জিন্নাহ বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) নিজ বাড়িতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে মুসলিম লিগ "সংগ্রাম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে" এবং তারা "একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে"। জিন্নাহ আরও বলেন যে, মুসলমানদের যদি আলাদা পাকিস্তান না দেওয়া হয় তবে তারা ‘সরাসরি পদক্ষেপ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের" ডাক দেবে। অর্থাৎ লড়াই করে পাকিস্থান বানাবে। এই প্রত্যক্ষ সংগ্রামের হুমকি দিয়ে জিন্নাহ  কংগ্রেসে পরিকল্পনা জানতে চায়। ওদিকে গান্ধীজী ও নেহরুর কংগ্রেস সমঝোতার মাধ্যমে কথা বলতে চাইছে জিন্নার জবাব ছিলো এটা—“আপনারা আমাকে কেন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বলেছেন? আমরাও ঝামেলা করতে চলেছি।”

কেবিনেট মিশনের বিরুদ্ধে জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের আগস্টের ১৬ তারিখে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের ডাক দেন। সোহরাবর্দি সেই সময় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী এই দিন সোহরাবর্দি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। ফলে আন্দোলন আটকানোর জন্য কোনো পুলিশ বাহিনী সেদিন ছিলো না। ওই দিনে সোহরাবর্দি মুসলমানদের জন্য আলাদা বাসভূমি পাকিস্তানের দাবিতে মুসলমানরা একত্রিত হয়ে কলকাতায় ব্যাপক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা তৈরী করে। এই অকস্মাৎ আক্রমণের কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। হিন্দু সেদিন প্রস্তুত ছিলো না। সেই দিন পূর্ব বাংলার নোয়াখালীতে এইদিন বিপুল ধ্বংসকাণ্ড চলে। বহু নার নারী শিশুর হত্যা ও সম্পত্তি লুঠ হয়। 

The Bengal Files সিনেমাটি সেই প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে।  এই The Bengal Files সিনেমা ঘিরে জল্পনা, পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে।  আপাতত খবর পাওয়া গেছে ট্রেলারে রিলিজ হওয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। 

Post a Comment

Welcome to our website!

নবীনতর পূর্বতন