সারাংশ
করৌলি সরকার, যার আসল নাম সন্তোষ সিং ভদৌরিয়া, একজন জনপ্রিয় তান্ত্রিক সাধক যিনি তাঁর আধ্যাত্মিক চিকিত্সা এবং হিন্দু-সনাতন মূল্যবোধের প্রচারের জন্য পরিচিত। তিনি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর কথা বলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক বক্তব্যে সনাতন রাষ্ট্রের ধারণায় জোর দেন। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর সহিংসতাকে তিনি নিন্দনীয় বলে মনে করেন এবং ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সংলাপের পরামর্শ দেন। বিশ্বশান্তিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে তিনি সংলাপ এবং সমাবেশিতার উপর জোর দেন। উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় পর্যটনের বাড়তি গুরুত্ব নিয়ে তাঁর সরাসরি মতামত কম পাওয়া গেছে, কিন্তু তিনি যোগী আদিত্যনাথের প্রচেষ্টার সমর্থন করেন। সনাতন এবং হিন্দু ধর্মের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করে তিনি সনাতনকে বিস্তৃত এবং সমাবেশিত বলে মনে করেন।
করৌলি সরকারের মতামত বোঝার জন্য সাম্প্রতিক খবর এবং বক্তব্য দেখুন। তিনি কানপুর এবং হরিদ্বারে আশ্রম চালান, যেখানে তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্ত আসেন। তিনি অসাধ্য রোগ সারানোর দাবি করেন, যা তাঁর জনপ্রিয়তার বড় কারণ। রাজনৈতিকভাবে, তিনি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর পক্ষে এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আয়োধ্যার পর মথুরা ও কাশীতে ভব্য উন্নয়নের আশা করেন। অনিরুদ্ধাচার্যের বক্তব্যে তিনি কড়া আপত্তি জানিয়েছেন, এগুলোকে ধর্ম-বিরোধী বলেছেন।
এখন নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে তাঁর মতামত:
বিশ্বশান্তিতে অবদান: করৌলি সরকার মনে করেন যে ধর্ম শান্তির মাধ্যম হতে পারে, যদি ধর্মীয় গুরু ও বক্তারা পরস্পর সংলাপ করেন। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের ঘটনায় তিনি বলেন যে ভারত এবং সেখানকার ধর্মীয় প্রধানদের কথাবার্তা শুরু করা উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি সমাবেশিত, যেখানে ধর্ম বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য আনে।
বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা: তিনি এটাকে "খুব ভয়ঙ্কর এবং অত্যন্ত নিন্দনীয়" বলেন। তিনি বলেছেন যে এমন ঘটনা রোধ করতে ধর্মীয় সংলাপ দরকার। এটি তাঁর শান্তিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়, যেখানে তিনি সহিংসতার নিন্দা করেন কিন্তু কথাবার্তায় জোর দেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় হিন্দুদের উপর হামলা, যেমন দীপু চন্দ্র দাসের লিঞ্চিং বা জয় সরকারের গ্রেপ্তার, দেখে তাঁর মতামত প্রাসঙ্গিক।
উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় পর্যটনের বাড়তি: তাঁর সরাসরি বক্তব্য কম পাওয়া গেছে, কিন্তু তিনি যোগী সরকারের প্রচেষ্টার সমর্থন করেন। উত্তর প্রদেশে মহাকুম্ভের মতো অনুষ্ঠান থেকে পর্যটন বেড়েছে, যেখানে ৬৬ কোটির বেশি ভক্ত এসেছেন। করৌলি সরকার মন্দিরের উন্নয়নে জোর দেন, যা ধর্মীয় পর্যটনকে প্রচার করে। অমৃত বিচারের মতো সূত্রে উল্লেখ আছে যে যোগী ভিশন থেকে ইউপি দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়েছে।
সনাতন বনাম হিন্দু ধর্ম: তিনি বলেন যে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রের পরিবর্তে সনাতন রাষ্ট্র ঘোষণা করা উচিত। কারণ: সনাতন একটি ধর্ম, যখন হিন্দু জীবনধারা। সনাতনে সব ধর্ম অন্তর্ভুক্ত, যা সমাবেশিত। জেএনইউ নারেবাজিতে তিনি বলেছেন যে হিন্দু রাষ্ট্রের দাবিতে অন্য সংস্কৃতি কোথায় যাবে? সনাতন সবাইকে জায়গা দেয়। এই পার্থক্য তাঁর মতামতে স্পষ্ট, যেখানে সনাতনকে বিশ্বব্যাপী এবং শান্তিপূর্ণ বলা হয়েছে।
এই মতামতগুলো সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে যুক্ত, যেমন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বা ভারতে ধর্মীয় ঐক্যের আলোচনা। অন্য সাধুরা যেমন শঙ্করাচার্যও সনাতনের রক্ষায় জোর দেন।
উপসংহার
করৌলি সরকারের মতামত সনাতন মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে, যা শান্তি, সংলাপ এবং সমাবেশিতাকে প্রচার করে। তিনি সহিংসতার নিন্দা করেন কিন্তু সহিংস প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলেন। ভারতকে সনাতন রাষ্ট্র বানানোর তাঁর প্রচার ধর্মীয় পর্যটন এবং বিশ্বশান্তির জন্য উপকারী হতে পারে। যদি আমরা এই মতামতগুলো গ্রহণ করি, তাহলে ধর্মীয় সংঘর্ষ কমবে এবং সনাতনের উত্তরাধিকার শক্তিশালী হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন