The Bengal Files” ঘিরে জল্পনা, পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে অগ্নিহোত্রীর Files সিরিজ ।

বিবেক অগ্নিহোত্রীর The Bengal Files চলচ্চিত্রটি পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৪৬ সালের Direct Action Day-এর ঘটনা, বিশেষ করে কলকাতা দাঙ্গা এবং নোয়াখালির গণহত্যার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি অগ্নিহোত্রীর Files সিরিজের তৃতীয় কিস্তি, যার আগে The Kashmir Files এবং The Kerala Story মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিটি ‘হিন্দু গণহত্যা’র গল্প হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

কি কারনে ব্যান করা হতে পারে?

সমালোচকদের মতে, ছবিটি ১৯৪৬ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে একপেশে উপস্থাপন করছে এবং ধর্মীয় বিভাজনকে উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রেলারে দেবী দুর্গার জ্বলন্ত মূর্তি দেখানো হয়েছে, যা তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর নেতাদের কাছে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে বিবেচিত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই চলচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে আমেরিকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। কলকাতায় ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়, যা অগ্নিহোত্রী ‘গণতন্ত্রের উপর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে এটি বন্ধ করা হয়েছে, যদিও সব অনুমতি নেওয়া ছিল। তিনি এই ঘটনাকে তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। [তথ্য সূত্র:Press Trust of India]

এই ভিডিও ক্লিপে তিনি  বলছেন :

"এটা আপনার সামনে ঘটেছে, ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, সি.বি.এফ.সি.-অনুমোদিত সিনেমার ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করা হয়েছে, এটা একটা অরাজকতা, স্বৈরাচার। আমরা একটি প্রাইভেট এলাকায় আছি এবিং আমাদের সকল অনুমোদন আছে। একেই অরাজকতা, ফাসিসম, ডিক্টেটরশীপ বলা হয়। আমি সহ্য করবো না। পুলিশ এসেছিল যাতে আমরা সিনেমাটি দেখাতে না পারি, কিছু লোকের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য বাংলায় পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিল্মটি জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে কথা বলে, তারা দেখাতে চায় না কারণ রাজ্য নিজেই জনসংখ্যার পরিবর্তনকে উৎসাহিত করে। আমাকে নীরব করা যায় না..."

এরপর বিবেক অগ্নিহোত্রী সতর্ক করেছেন যে, যদি পশ্চিমবঙ্গ তার চলচ্চিত্রের মুক্তি বাধা দেয়, তবে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

IndiaHood News অনুযায়ী - লেক টাউন থানায় একটি FIR দায়ের করা হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ মামলার শুনানিকালে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এই সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, ২৬শে আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ থাকবে এবং কোনও ততদিন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।  ১৯শে আগস্ট তারিখ পর্যন্ত এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিনেতা বিক্টর ব্যানার্জি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যে, স্ক্রীনিংটি শান্তিপূর্ণভাবে, হুমকি বা হস্তক্ষেপ ছাড়া অনুষ্ঠিত হোক এবং শিল্পী ও দর্শকদের অধিকার সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকুক।

কেন নিষেধাজ্ঞার মুখে?

এই সমস্ত নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যা সম্ববত মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। যাতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সকল ২৯৪ সদস্য নির্বাচন করা হবে।বিবেক অগ্নিহোত্রীর The Bengal Files সিনেমা ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে বড় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে জনশ্রুতি শোনা যাচ্ছে । ১৯৪৬ সালের Direct Action Day এবং নোয়াখালি দাঙ্গার উপর নির্মিত এই সিনেমা ঐতিহাসিক ঘটনার উপস্থাপনা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের অভিযোগ হয়েছে। নিচে আমরা বিভিন্ন দিক গুলো তুলে ধরলাম: নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব হবে বলে মনে করা। 

  1. সাম্প্রদায়িক বিভাজন:
    • সিনেমাটি “হিন্দু গণহত্যা”র উপর আলোকপাত করেছে বলে দাবি করা হয়, যা BJP-এর হিন্দু ভোটারদের, বিশেষ করে উচ্চবর্ণ (ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য) এবং মার্জিনাল গোষ্ঠী (মতুয়া, রাজবংশী) একত্রিত করার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর “৫% ফর্মুলা” TMC বা নিরপেক্ষ ভোটারদের থেকে ৫% হিন্দু ভোট BJP-এর দিকে আনার লক্ষ্য রাখে।
    • TMC নেতৃবৃন্দ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ, সিনেমাটিকে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। TMC মনে করে, এটি বাংলার সংস্কৃতির উপর আঘাত, যা BJP-এর “হিন্দুত্ব” বর্ণনার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
    • রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ সিনেমার মুক্তি ধর্মীয় বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে, মুসলিম ভোটারদের (জনসংখ্যার ২৭%) BJP-এর বিরুদ্ধে একত্রিত করতে পারে এবং হিন্দু ভোটারদের (৭০%, যার মধ্যে ২৩.৫% তফসিলি জাতি এবং ৫.৮% তফসিলি উপজাতি) উজ্জীবিত করতে পারে। তবে, অতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক বক্তৃতা নিরপেক্ষ ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
  2. ভোটার তালিকার উদ্বেগ:
    • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন, দাবি করে যে BJP নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় হরিয়ানা ও গুজরাট থেকে “ভুয়ো ভোটার” তালিকাভুক্ত করছে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো জেলায়। তিনি ভোটার তালিকা সংশোধন না হলে প্রতিবাদের হুমকি দিয়েছেন।

এই অবৈধ প্রবেশ রুখতে NRC ও CAA নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মাননীয় মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় BJP ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিভিন্ন বাক্য বান দ্বারা আক্রমন করেছেন। তার মঞ্চ থেকে বার বার প্রশ্ন করা হয়েছে NRC যদি নাগরিক পঞ্জিকরণ হয় তাহলে ভোটের লিস্ট কি?

Voter Demographics (Estimated)

Data sourced from 2011 Census and recent analyses. For the latest voter list updates, visit wbsec.gov.in or eci.gov.in.

Post a Comment

Welcome to our website!

নবীনতর পূর্বতন