ধর্ম কি? বৈদিক ধর্ম এবং অন্যান্য ধর্মমত গুলর মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

ধর্ম শব্দটি হিন্দুদের সংস্কৃত শব্দ। একে রিলিজিয়ন বা দ্বীন বা মাযহাব বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না। তাহলেই ঘেঁটে ঘ হয়ে যাবে। কারণ, শব্দের সঠিক ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রিলিজিয়ন ও ধর্মের নামে যে যে সকল ভ্রান্তি আছে সেগুলো দূর করা দরকার। যেগুলো ধর্ম নয়, সেগুলোকে ধর্ম থেকে আলাদা করেই জানতে হবে। 

আজকের আলোচনার বিষয় বস্তুগুলো নিম্নরূপ : 


ধর্মের বিভিন্ন সংজ্ঞা :

সংস্কৃত ব্যাকরণে ও বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রে এই ‘ধর্ম’ শব্দটি বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্যান্য পাশ্চাত্য দুনিয়ার কাছে ধর্মের তুল্য কোনো শব্দ ছিলো না। তাই রিলিজিয়ান বা মাযহাবকে তারা ধর্মের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

আমরা দেখেছি এই রিলিজিয়ান বা মাযহাব গুলো ধর্মের স্বরূপ থেকে ভিন্ন। কারণ তাঁরা একটি কিতাব, একটি নবি বা ভবিষ্যত বক্তা ও একটি নির্দিষ্ট ঈশ্বর সত্তার আরাধনা করেন। সেই ইশ্বর ও পুস্তক ছাড়া অন্য কিছুই তারা সত্য বলে মনে করে না।

অপর দিকে সনাতন বৈদিক হিন্দু ধর্ম অনুসারে, ঈশ্বর কোনো একজন ব্যক্তি বা বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই, এমনকি জড় পদার্থের মধ্যেও সেই ইশ্বর থাকেন। যে প্রকারে, যে ভাবেই,  যে কেউ আরাধনা করুক না কেন, ইষ্ট তিনি সব ভাবেই তাঁর আরাধনা স্বীকার করেন।

মানব ধর্ম হিন্দু ধর্ম 

My way is the high way — এই জিনিসটা সনাতন ধর্মে নেই। তাই, ধর্ম শব্দের পরিভাষা হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র ছাড়া তথাকথিত অন্য কোনো ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে নেই। হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রে ধর্মের পরিভাষা নিম্নরূপ। 

যদি প্রশ্ন করা হয় একজন মানুষের ধর্ম কি? কি ভাবে ধার্মিক মানুষ আর অধার্মিক মানুষের নির্ণয় করা সম্ভব। তার জন্য এই শ্লোক বলা হয়েছে:  

ধৃতিঃ ক্ষমা দম অস্তেয় শৌচং ইন্দ্রনিগৃহ।
ধীঃ বিদ্যা সত্যম্ অক্রোধ দশকম ধর্মস্য লক্ষণম্।।
 — (মনুস্মৃতি ৬ষ্ঠ অং ৯২ শ্লোক)

অর্থ: ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্য, অক্রোধ- এই দশটি ধর্ম্মের লক্ষণ। 

ধৃতি মানে দৃঢ়তা, দম অর্থাৎ ইন্দ্রীয়র দমন। অস্তেয় অর্থাৎ অন্যের বস্তুর নিজের অধিকার করা, শৌচ অর্থাৎ স্বচ্ছতা, ইন্দ্রীয় নিগ্রহ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের অপর শাসন করার ক্ষমতা। ধী শব্দের অর্থ হলো বুদ্ধি, বা চিন্তা করার ক্ষমতা। বিদ্যা, সত্য, ক্রোধ হীনতা এই দশটি গুণ ধারন করেই একজন মানুষ ধার্মিক হতে পারে। 

এই কথা গুলো প্রায় প্রতিটি ধর্মই বিভিন্ন ভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো Commandments বা আদেশ রূপে করা হয়েছে। 

ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের দশ শপথ:

1. You shall have no other God’s before me(God).

2. Thou shalt not make unto thee any graven images.

3. Thou shalt not take the name of the Lord thy God in vain

4. Remember the Sabbath day and keep it Holy.

5. Honor your father and mother

6. Thou shalt not kill. — God wants us to protect human life.

7. Thou shalt not commit adultery. — This means husbands and wives should be faithful to one another

8. Thou shalt not steal

9. Thou shall not bear false witness.

10. You shall not covet

—উক্ত দশটি শর্ত ইহুদী এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রথম পাঁচটি ছাড়া, বাকি পাঁচটি একই কথা বলে। যারা অনেকটাই হিন্দু ধর্মের মতোই। অহিংস, অবৈধ সম্পর্ক বা ইন্দ্রীয় নিগ্রহ, অচৌর্য, অসত্য সাক্ষী বর্জন, অপরিগ্রহ। 

এই গুলোই তাঁদের ধর্মের মানদণ্ড। যারা এই দশ গুণের খেলাফ করে। তারা স্বর্গে প্রবেশ করতে পারবে না। 

একবার ভেবে দেখুন, পশুর ধর্ম পশুর মধ্যেই থাকে, তাই তারা পশু। মানুষের ধর্ম তো মানুষের মতোই হাওয়ার কথা। সেটা শুধু স্মরণ করিয়ে দেয় এই ধর্ম গ্রন্থ গুলো। তাই, মনুস্মৃতি মানুষ কে ধর্মের ওই দশ গুণ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। 

ইসলাম দ্বীন:

ইসলাম ধর্মে কোরআন শরীফে শুধুই আদেশ আর আদেশ। তাদের দৃষ্টিতে সেই আদেশের প্রতি যে যতো কট্টর সে ততই উন্নত। 

ইসলামের পাঁচটি কর্ত্তব্য আছে এই পাঁচটি কর্ত্তব্য হল ইসলামের মূল বিশ্বাস ও অনুশীলন:

শাহাদাহ: বিশ্বাসের পেশা, যেখানে বলা হয়েছে "ঈশ্বর ছাড়া কোন উপাস্য নেই, এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল"। এই শাহাদাহ পাঠ করে ইসলামে প্রবেশ করে।

 সালাত: নামাজ।

 যাকাত: ধর্মীয় অর্থ দান।

 সাওম: রোজা রাখা বা একটি নির্দিষ্ট সময় উপবাস করা

 হজ: মক্কা মদীনায় তীর্থযাত্রা।

এগুলোই তাঁদের পরম কর্তব্য। হিন্দুদের উক্ত ধর্মের দশটি লক্ষণ এবং ইহুদী খ্রিষ্টানদের দশটি আদেশের অনুরূপ কোরআন বলেছে:

এসো, আমি তিলাওয়াত করব যা আল্লাহ তৈরি করেছেন আপনার জন্য একটি পবিত্র দায়িত্ব। বলো: ঈশ্বরের সমতুল্য কেউ নেই।

আপনি আপনার সন্তানদের প্রয়োজনের জন্য হত্যা করবেন না;  আমরা আপনার জন্য এবং তাদের জন্য রিজিক প্রদান.

প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে হোক অশ্লীল আচরণের কাছে যাবে না।

তোমরা ন্যায় ও আইনের পথ ছাড়া করো জীবনকে হরণ করবে না, যাকে ঈশ্বর পবিত্র করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা প্রজ্ঞা শিখতে পার।

আর তুমি অনাথের উন্নতি করা ব্যতীত তার সম্পদের কাছেও যাবে না,  যতক্ষণ না সে পরিণত বয়সে পৌঁছায়।

ন্যায়বিচারে পরিমাপ ও ওজন সম্পূর্ণ কর। কোন আত্মার উপর কোন ভার চাপানো উচিত নয় কিন্তু তা বহন করতে পারে।

এবং যদি তুমি কথা রাখো, তাহলে তাহা পূর্ন করো, এমনকি যদি কোন নিকটাত্মীয় উদ্বিগ্ন হয় এবং ঈশ্বরের সামনে আপনার বাধ্যবাধকতা পূরণ করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন, যাতে তোমরা স্মরণ করতে পার।

নির্জীব পদার্থের ধর্ম

মানুষ ছাড়া নির্জীব পদার্থের ধর্ম নিয়েও হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র উল্লেখ্য করেছে। বৈশেষিক শাস্ত্রের রচয়িতা ঋষি কনাদ পদার্থের অস্তিত্ব সম্পর্ক লিখেছেন:
যতোঃ অভ্যুদয় নিঃশ্রেয়স সিদ্ধিঃ স ধর্মঃ।
— বৈশেষিক দর্শন, ১ম অধ্যায়, ১ম আহ্নিক, ২য় সূত্র

অর্থা:  যা জাগ্রত হলে নিঃশ্রেয়স সিদ্ধি হয় অর্থাৎ পরিপূর্ণতা লাভ করে, সেটাই ধর্ম।

রাজার রাজ ধর্ম:

মহাভারতে বেদব্যাস ভীষ্ম পিতামহের উক্তিকে উধৃত করে একজন রাজার ধর্ম কি হাওয়া উচিৎ সেটি বোঝাতে গিয়ে বলছেন:
ধারণাদ্ ধর্মম্ ইত্যাহু র্ধর্মেণ বিধৃতাঃ প্রজাঃ।
যঃ স্যাদ্ধারণসংযুক্তঃ স ধর্ম ইতি নিশ্চয়।।
—মহাভারত শান্তিপর্ব ১০৬.১৫

অর্থ: যাহা ধারন করা হয় তাহাই ধর্ম। ধর্মই প্রজার পালন করে। প্রজাগনের পালন ধর্মের ধারন দ্বারা হয়। যা (দণ্ড) সদগুন যুক্ত তা অবশ্যই ধর্ম।

অতএব, ধর্ম কোনো ইশ্বর, পরম শক্তিশালী কোনো দেবতার উপাসনা বা প্রার্থনায় সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মের প্রয়োজন আছে। তাই, আমি ধর্ম থেকে রিলিজিয়ন কে আলাদা করে দেখার মত প্রকাশ করছি। আপনিও কি তাই মনে করেন? আমাদের লিখে জানান 

ধর্মের প্রতি নাস্তিক ও বামপন্থীদের ধারনা:

নাস্তিক ও বামপন্থিদের মতে ধর্ম হলো আচার, অনুষ্ঠান ও মানুষের কল্পনিক ইশ্বরের প্রতি একটি অন্ধবিশ্বাস ও কল্পিত ধারনা। যা মুলত Religion গুলোর সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়।।

তারা বলেন, (১) মানুষ যখন অসভ্য ছিলো, প্রকৃতিক দুর্যোগে ভয় পেতো, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা তাদের থেকেও শক্তিশালী কোনো দেবতাকে স্মরণ করতো। সেই থেকেই ধর্মের উৎপত্তি। তাদের দৃষ্টিতে —ধর্ম মানুষকে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দিকে ঠেলে দেয়। (২) ধর্মের অনুসারীরা একজন পূজারী, মৌলবী বা পাদ্রীর অজ্ঞা পালন করে; রাজা, সুলতান বা কিং এঁদের রক্ষা করে, রাজ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের মানসিক দাস করে রাখে। আবার আরেক ভাবে বলতে শোনা যায়, (৩) ধর্ম এক প্রকার আফিমের নেশার মতো। 

১৯৭০ সালের অ্যানেট ইওলিন এবং জোসেফ ওম্যালি নামক দুই চিন্তা বিদরালিক্ত5 খছেন:

Religion is the sigh of the oppressed creature, the heart of a heartless world, and the soul of soulless conditions. It is the opium of the people.

 অর্থাৎ —“রিলিজিয়ন হচ্ছে নির্যাতিত জীবের দীর্ঘশ্বাস , হৃদয়হীন জগতের হৃদয়, আত্মাহীন অবস্থার আত্মা। রিলিজিয়ন হচ্ছে জনগণের আফিম।” 

তাঁর মতে; "মানুষই ধর্ম তৈরি করে, ধর্ম মানুষকে তৈরি করতে পারে না। যে খিদা তারা এই জগতে মেটাতে পারে না সেই খিদা মিটাতে ঈশ্বরের আশ্রয়। মানুষ এখনও নিজেকে খুঁজে পাননি কিংবা ইতিমধ্যে আবার নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন, ধর্ম হল সেই মানুষের আত্মচেতনা এবং আত্মসম্মান।" — অর্থাৎ মানুষ নিজের ধর্ম নিজেই তৈরী করে। নিজের অক্ষমতা, ব্যর্থতা, দূর্বলতা ঢাকতে মানুষ ধর্মের স্মরনাপন্ন হয়। তারা আরো বলেছেন। "মানুষ তো জগতের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে থাকা কোনও বিমূর্ত সত্তা নয়। মানুষই জগৎ, রাষ্ট্র, ও সমাজ। এই রাষ্ট্র, এই সমাজ তৈরি করে, একটা উলটো জগৎচেতনা কেননা সেগুলো হচ্ছে এক উলটো জগৎ। ধর্ম হচ্ছে সেই উলটো জগতের এক সামগ্রিক তত্ত্ব।"


ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি:

অ্যানেট ইওলিন এবং জোসেফ ওম্যালি যা কিছুই বলেছেন সেটা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ তাঁরা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির Religion কে দেখেছে। তাঁদের কাছে সেটা নির্যাতিত জীবের দীর্ঘশ্বাস , হৃদয়হীন জগতের হৃদয় এবং আত্মাহীনের আত্মা মনে হয়েছে। কিন্তু যারা ওই রিলিজিয়ান কে ধর্ম অনুবাদ করেছেন। তাদের উক্তি ও যুক্তি নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কারণ রিলিজিয়ান ও ধর্ম শব্দটি ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যাকরণগত দিক থেকে একেবারেই আলাদা। মা যেভাবে কখনো মাসী হতে পারে না। সেভাবেই ধর্ম কখনো রিলিজিয়ান হতে পারে না। তাই ধর্ম ও রিলিজিওনের ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করবো।

সংস্কৃত ধর্ম ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ :

সংস্কৃত মাতৃকা বর্ণ ‘ধ+্ঋ’ » 'ধৃ' ধাতু ও 'মন' প্রত্যয় যোগে তৈরী হয়েছে “ধর্ম” শব্দটি। ধৃ অর্থাৎ, ধারন করা । ব্যাকরণ অনুযায়ী - যে কোনো শব্দের মূল রূপকে প্রকৃতি বলে। আবার ক্রিয়ার মৌলিক রূপকে ধাতু বলে। যেমন - ভূ, গম, ধৃ, কৃ ইত্যাদি। এই ধাতুর পড়ে বিশেষ বিশেষ নিয়মে যা যুক্ত হয় সেটিকে প্রত্যয় বলা হয়। উদাহরণ স্বরূপ, ভূ+তি=ভবতি, নর+সু=নরঃ, পান্ডু+ ষ্ণ= পাণ্ডব, রঘু+ষ্ণ=রাঘব ইত্যাদি। এখানে 'তি', ‘সু’, ‘ষ্ণ’ ও ‘মন’ হলো প্রত্যয় এবং ভূ, নর, পান্ডু, রঘু, ধৃ হলো ধাতু। ধর্ম কথার অর্থ রিলিজিয়ান বা দ্বীন বা মঝহবের তুল্য নয়।

ইংরজীতে Religion ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ :

ইংরজীতে Religion শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Religare থেকে। যার অর্থ ছিলো ‘আবদ্ধ করা’ বা ‘নিয়ন্ত্রন করা’। Religare থেকে Religio যার অর্থ হলো বাধ্যবাধকতা, শ্রদ্ধা । সেই থেকে Religion শব্দ এসেছে।

সংজ্ঞা অনুযায়ী: The belief in and worship of a superhuman power or powers, especially a God or gods.

ধর্ম এমন কোনো জিনিস নয় যাহা মানুষকে বশ করে বা বল প্রয়োগ করে রীতি নীতি অন্ধ ভাবে অনুসরণ করেতে বাধ্য করে। আমরা ধর্ম -শব্দটি কোনো পদার্থের গুণ, তার প্রকৃতিক বা ভৌত অবস্থা উল্লেখ্য করতে ব্যবহার করে থাকি। যেমন, আগুনের ধর্ম হলো দহন করা, জলের ধর্ম হোলো উচু স্থান থেকে নীচু স্থানের দিকে বয়ে চলা ইত্যাদি। আবার সামাজিক কর্তব্য পালন বা নৈতিক জ্ঞান হিসেবেও ব্যবহার করি। যেমন, পুত্রের ধর্ম হলো তার মাতা পিতার সেবা করা, চাকরের ধর্ম হোলো প্রভুর সেবা করা। 

পিতার সেবা করা পুত্রের রিলিজিয়ান বলা হয় না, ডিউটি বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় বলা হয় না "আগুনের রিলিজিয়ন হলো দহন করা"। তাই, সাধারণ জ্ঞানেই রিলিজিয়ান ধর্ম এক বস্তু হয় নয়। এই ভাবেই sacrament কে বলা হয় সংস্কার। ল্যাটিন মূল শব্দ (root word) ‘sacer’ বা Sacred বা পবিত্র -ment suffix (প্রত্যয়) যোগে তৈরী হয়েছে sacrament. ল্যাটিন অনেক শব্দই সংস্কৃতের মতো শোনায়। যেমন: Septa ≈ সপ্ত , Octa≈ অষ্ট , Nevam≈ নবম  Deca ≈ Dashm সেরকমই sacer স্যাকর আর সংস্কার একই রকম শোনায়। এবং আশ্চর্য ভাবে এঁদের অর্থ গুলোও একই। কিন্তু যখনই বলা হয় কুসংস্কার তখন এটাই superstition হয়ে যায়।  এই superstition এর ব্যুৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ stare যার অর্থ "to stand" । superstare বা কট্টরতা। 

তবেই দেখুন কিভাবে শব্দের ভুল অর্থ আমাদের মূখে মুখে ঘুরছে। তাই আমাদের শব্দ নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিৎ। 

যদি বলা হয় — 'চোরের ধর্ম চুরি করা' তবে কি চুরি করা কি ধর্ম হয়ে যায়?

জগতের সকল বস্তুই ধর্মের অন্তর্গত কিন্তূ ধর্ম  জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এই জন্যে যাহা ধর্ম নয় তা'কে অধর্ম বলা হয়। অধর্মের মধ্যেও ধর্ম শব্দটি আছে, কিন্তু সেটা বিপরীত অর্থ বহন করে। যেমন যাকে আমরা অমানুষ বলি সেও তো একজন মানুষই। সেভাবেই অধর্ম একটা ধর্ম, কিন্তু সেটা বিপরীত অর্থে। 

চোরের ধর্ম যদি চুরি করা হয় তবে সেটা কেবমাত্র চোরেরই ধর্ম হবে। যে ব্যক্তি চোর সেই চুরি করে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সেটা গ্রহন যোগ্য হবে না। ধর্ম জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তির কাছে চুরি করা ‘অধর্ম’ বলে গণ্য হবে।

উপসংহার 

পরমাণু, জীবাণু, কীট, পতঙ্গ, ছাগল, কুকুর, সাপ, ব্যাঙ, ডাকাত, চোর, সাধু, পাগল, দেবতা, সকলের নিজ নিজ ধর্ম অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই, ধর্মকে কেউ সৃষ্টি করতে পারে না। ধর্মকে যথা রূপে নির্ণয় করে তার পালন করতে হয়। তাই ‘ধর্ম’-এই শব্দের অর্থ নিয়ে কোনো সন্দেহর অবকাশ থাকলো না। 

ধর্ম কি? বৈদিক ধর্ম এবং অন্যান্য ধর্মমত গুলর মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
ধর্ম শব্দটি হিন্দুদের সংস্কৃত শব্দ। একে রিলিজিয়ন বা দ্বীন বা মাযহাব বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না। কারণ, শব্দের সঠিক ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রিলিজিয়ন ও ধর্মের নামে যে যে সকল ভ্রান্তি আছে সেগুলো দূর করা দরকার। যেগুলো ধর্ম নয়, সেগুলোকে ধর্ম থেকে আলাদা করেই জানতে হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন
InterServer Web Hosting and VPS
InterServer Web Hosting and VPS