হিন্দুদের দেবতা কি?
হিন্দুদের দেবতাদের অনেক প্রমাণ আছে এবং সেগুলো স্পষ্ট। তার আগে বুঝতে হবে এই দেবতা আসলে কি ? বেদ অনুসারে দেবতারা হলেন এই সৃষ্টির বিভিন্ন সূক্ষ্ম উপাদান। দেবতা মানে প্রকৃতির শক্তি বা চেতনার বিভিন্ন স্তর। যেমন — প্রতিটি তত্ত্বের একটি করে দেবতা আছে। আগুনের জন্য অগ্নিদেব, জলের জন্য বরুণ দেব, বায়ুর জন্য পবনদেব, পৃথিবীর জন্য ভূদেবী। এভাবে, সৃষ্টি স্থিতি এবং লয় এর জন্য ব্রহ্মা-বিষ্ণু এবং মহেশ্বর। পুরাণের দেবী দেবতার কাহিনী, জ্যোতিষ শাস্ত্র, ধর্মতত্ত্ব মনে রাখার জন্য কৌশল।
- সূর্য জ্ঞান ও আত্মশক্তির প্রতীক।
- চন্দ্র মনের প্রতীক।
- বৃহস্পতি গুরুত্বের প্রতীক।
- অগ্নি তপস্যা ও শুদ্ধতার প্রতীক।
- বায়ু প্রাণশক্তির প্রতীক।
- বরুণ ন্যায়বিচারের প্রতীক।
গৌতম-অহল্যা-ইন্দ্র কাহিনীর ব্যাখ্যা:
গৌতম ঋষি ছিলেন এক মহাজ্ঞানী। একদিন তিনি যখন আশ্রমের বাইরে ছিলেন, তখন দেবরাজ ইন্দ্র এসে তার স্ত্রী অহল্যাকে প্রলুব্ধ করলেন। পরবর্তীতে গৌতম ঋষি বিষয়টি বুঝতে পেরে অহল্যাকে ত্যাগ করলেন এবং ইন্দ্রকে অভিশাপ দিলেন।
বিবেক যখন অসতর্ক থাকে। তখন ইন্দ্রীয় মনের অধীন হয়ে কাজ করে, ইন্দ্রিয় বিষয় ভোগের লালসা রাখে। দেবরাজ ইন্দ্র সেই ইন্দ্রিয়ের প্রতীক, চন্দ্র হলো মন , এবং অহল্যা হলেন বিষয়, গৌতম ঋষি হলেন বিবেক।
বিষয়ের স্বামী গৌতম ঋষি (বিবেক) যখন মনের ছলনায় বিষয়কে ঘরে রেখে বাইরে যায়। চন্দ্রের পরামর্শে ইন্দ্র অর্থাৎ ইন্দ্রিয় লোলুপতা বিবেক অর্থাত ঋষি গৌতমের স্ত্রী আর্থাৎ বিষয় ভোগে গমন করে। ভোগের পর বিবেক ফিরে এসে মন ও ইন্দ্রিয়কে ভৎসনা করে এবং বিবেক বিষয়কে ত্যাগ করে।
এই ঘটনা আমাদের অন্তরে সব সময় হতে থাকে। কামুক দৃশ্য দেখে আমাদের বিবেক হারিয়ে যায়, আমরা তখন কামনা পূরণের জন্য মনের কথা শুনি। কিন্তু বিবেক বর্জিত কর্মের ফল আমাদের পতন করে। দেবরাজ ইন্দ্র সেই ইন্দ্রিয়। কিন্তু যিনি এই ইন্দ্রিয় দমন করতে পরে সে শ্রী রামের মতো পূজিত হন। শ্রী রাম অহল্যার মুক্তি দাতা।
এখন প্রশ্ন হলো, যদি এই সকল কাহিনী তত্ত্ব হয়, তাহলে এদের আমরা পূজা করছি কেন? পূজা কথার অর্থই হলো পুনঃ পুনঃ জাগরণ। অর্থাৎ আমরা ওই জ্ঞানকে বার বার নিজেদের মধ্যে স্মরণ করিয়ে নিজেরই মঙ্গল করছি বা সেই শক্তির পালন করছি।
যেমন বীজকে সেবা করলে সেটি বৃক্ষ হয়ে যায়। তেমনি পুনঃ পুনঃ জাগরণ করতে করতে আমরা তদ্রুপ হয়ে যাবো।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Welcome to our website!